বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০১৩, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২০ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


বৈচিত্র ( গল্প )

বইগুলো এলেমেলো করে টেবিলের উপর ছড়ানো। বইগুলো সাজিয়ে রাখার চেষ্টা করছে মামুন। আগে ঠিক করত না। যেভাবে ছড়িয়ে রাখা হতো সেভাবেই থাকতো। এখন ঠিক করতে হয়। নাহলে লোপা অনেক রাগ করে। ও প্রতিদিন সাজিয়ে দেয় বইগুলো। পরে যদি দেখে বই গুলো এলোমেলো আছে তাহলে ইচ্ছামত বকে। “ সামান্য বইগুলো ভাজ করে রাখতে পারো না, তোমাকে বই ধরতে কে বলে? তুমি বই ধরবা না।”

মাঝে মাঝে বকাগুলো শুনতে ভালোই লাগে। মিস্টি গলায় বকা। লোপা গলায় কঠোরতা আনতে চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। কিন্তু ওর বিরক্ত হওয়াকে বেশ ভয় লাগে মামুনের। তাই এলোমেলো করার পর আবার বইগুলো দেখা শেষে গুছিয়ে রাখে। টেবিলের একপাশে বিশাল একটা খাতার স্তুপ। বই সেলানোর সুতা দিয়ে বাঁধা। পাবলিক পরীক্ষার খাতা। ছয়শত খাতা আছে। সেগুলো দেখে বিরক্ত হয়। গতরাত্রে পঞ্চাশটার মত দেখা হয়েছে। তবে এখন খাতাগুলো নিয়ে বসা দরকার। সামনের শনিবার জমা দিয়ে দিতে হবে। অথচ অনেক খাতা দেখা বাকী। কিন্তু একটুও ইচ্ছা করছে না।

এই অনিচ্ছাটা হয়েছে বিয়ের পর। আগে একরাতেই সব খাতা দেখে ফেলত। যতক্ষণ শেষ না হতো ততক্ষণ উঠত না। তখন একা ছিল। গান চালু করে দিত লো ভলিয়মে। আর গান শুনতে শুনতে খাতাগুলো কাটা শেষ হয়ে যেত। অন্য টিচাররা অবাক হয়ে যেত এত তাড়াতাড়ি খাতা জমা দিচ্ছে দেখে। কিন্তু লোপার সাথে বিয়ে হওয়ার পর কেমন যেন আলস্য জমে বসেছে।

কাজের ব্যাপারে লোপা অনেক সিরিয়াস। বার বার তাগাদা দেয়। তারপরও কেন জানি ইচ্ছা করে না। “ এই তোমার খাতাগুলো যে জমা দিতে হবে খবর আছে, এত কম কম কাটলে হবে? ”

“ ইচ্ছা করছে না। ইচ্ছা করছে ঘুমাতে।”
“ নাহ এখন কোন ঘুম চলবে না, খাতা কাটো।”

মামুন হাই তুলে। দেখে মনে হয় এখুনি ঘুমে চোখ ঢলে পড়বে।

তা দেখে লোপা বলে, এই অভিনয় রাখো। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
কিছুক্ষণের মধ্যে চা বানিয়ে আনে। “নাও চা খাও। চা খেলে ঘুম দূর হবে।”
“তুমি এত নিষ্ঠুর কেন? একটা মানুষ ঘুমাতে চাচ্ছে অথচ তুমি তাকে ঘুমাতে দিচ্ছো না, মেয়েরা যে কেন এত নিষ্ঠুর হয়?”
“মেয়েরা মানে? কি বলছো? অন্য মেয়েদের সাথেও উঠাবসা আছে নাকি তোমার? সাংঘাতিক ব্যাপার তো।”
“ আরে নাহ, তোমাকে বলছি। আর মেয়েরা হবে না। হবে মেয়ে। কথা মিলানোর জন্য মেয়েরা বলছি।”
“ ঠিক আছে আধা ঘুমন্ত মানুষ এখন তুমি। তাই তোমাকে মাফ করে দেওয়া হলো।”
বলেই হাসি দেয় লোপা।
লোপার চুল গুলো ছড়ানো। অনেক লম্বা চুল। মামুন সে চুলে ঘ্রাণ নিতে নিতে ঘুমিয়ে পড়ে। আশ্চর্য রকমের এক মাদকতা যেন আছে সে কালো চুলে।

এই তোমার মাথাটা একটু আনো।
“লোপা তা শুনে দূরে সরে যায়। এখন সেসব হবে না। তাড়াতাড়ি চা খাও।”
“আরে চা তো অনেক গরম। ঠান্ডা হোক একটু।”
“ঘুম দূর করার জন্য তো গরম চা-ই খেতে হয়। ঠান্ডা চা খেলে তো আরো ঘুম চলে আসবে।”
“এত গরম যে গরম জিহ্বা পুড়ে যাবে তো।”
“জিহ্বা পুড়ে যাক, তারপরও খাও। আর কোন কথা না। চা খেয়েই বাকী খাতাগুলো গুড বয়ের মত দেখো।”
এই কথা বলেই রুম ছেড়ে চলে যায় লোপা।

চা খেয়ে আরো কিছু খাতা দেখে। আধা ঘন্টা পর আর ইচ্ছা করে না। ইংরেজী খাতা। অনেকে উল্টা পাল্টা লিখছে। বাংলাতে তারপরও মজার লেখা পাওয়া যায়। কিন্তু ইংরেজী মজার লেখা পাওয়া যায় না। বেশির ভাগই ভুল। ভুল চিহ্নিত করতে গিয়ে অনেক কালি চলে যায়। মামুন একটা জিনিষ ভাবে খাতা কাটতে গিয়ে কোন বিষয়ে কালি বেশি খরচ হয়? মনে হয় ইংরেজীতেই। কারণ ইংরেজীতেই শিক্ষার্থীরা বেশি ভুল করে। আর ভুল করে মার্ক করতে কালিও বেশি যায়। পঞ্চাশটার মত খাতা কাটা হয়।

লোপার পায়ের শব্দ শোনা যায়। সাথে সাথে মামুন একটা ভাব নেয়। মাথাটা একটু নিচে নামায় রাখে। সাথে একটু ঢুলুনিও দেয়। দেখলে মনে হবে ঘুমে জড়িয়ে যাচ্ছে।

এরকম দেখে লোপা বলে, “ঠিক আছে আর কাটতে হবে না। ঘুমাতে আসো।”
মামুন মনে মনে খুশী হয়। যদিও উপরে তা প্রকাশ করে না। অভিনয় তাহলে সফল। সে ঘুমন্ত হাতে খাতা গুলো গুছিয়ে রাখতে যায়।

তা দেখে মানা করে লোপা। “তোমার গুছাতে হবে না। ঘুমে তো পুরা শেষ। ফ্রেশ হয়ে বিছনায় চলে যাও। আমি গুছিয়ে রাখছি।”

এখন আবার বিরক্ত হাতে খাতাগুলো দেখা শুরু করে মামুন। লোপা পাশের ফ্ল্যাটে গেছে। ঐ মহিলার সাথে খুব ভাব। নতুন কিছু রান্না করলে একজন অন্য জনকে পাঠায়। একদিন এরকম পাঠিয়েছে। খাসির মাথা মুগ ডাল দিয়ে।

মামুন খাচ্ছে। লোপা জিজ্ঞেস করে, কেমন লাগছে ভাবীর রান্না?
মামুনের ইচ্ছা করে একটু রাগাতে লোপাকে। সে বলে, হুম মজা।
-তা তো হবেই। কিন্তু কেমন হয়েছে, সেটা জিজ্ঞেস করলাম। মানে কোন পর্যায়ের?
-আরে অনেক মজার। বেহেসশতে গিয়েও এই ভাবীর রান্না খুঁজব। এইরকম অমৃত মনে হচ্ছে।
হাসতে হাসতে বলে মামুন। মনে করেছিল এই কথা শুনে লোপা একটু রাগ করবে।

লোপা রাগ না করে উল্টা হাসতে হাসতে বলে, আর আমার রান্না দোজখে গিয়ে খেতে ইচ্ছা করবে তাই না???

আরে সেটা বলি নাই তো।
চোখ পাকিয়ে লোপা বলে, কিছু বলতে হবে না, বুঝি বুঝি সব বুঝি।

আরো বেশ কিছু খাতা দেখা হয়। তবে না পারতে দেখার মত। এ যেন চোখ বুলিয়ে নেওয়া। মাঝে মাঝে চিন্তা হয় ওরা প্রত্যেকজন কি যত্ন করে খাতায় লিখে। কিন্তু কি তাচ্ছিল্যের সাথে খাতাগুলো কাটা হয়। মামুন চেষ্টা করে নাম্বার ভালোই দিতে। কড়া ভাবে কখনো কাটে না। লিখলে নাম্বার দিয়ে দেয়।

একটা খাতা কাটছে। শেষ পাতায় গিয়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায়। ইংরেজী ২য় খাতায় বাংলা লেখার কোন সুযোগ নেই। সব উত্তর ইংরেজীতে লিখতে হয়। কিন্তু এখানে বাংলা লিখলো কেন? বিরক্ত হয়ে কি লিখেছে সেটা পড়া শুরু করে,

“স্যার দয়া করে আমাকে পাশ করায় দিবেন। ২য় বর্ষে উঠতেই আমার বিয়ে হয়ে গেছে। আমার শ্বাশুড়ী অনেক যন্ত্রণা করেন। বাসায় ননদরাও খুব ফ্যাশনেবল। সব কিছু করে ঐ পড়ালেখা ছাড়া। শ্বাশুড়ী অনেক জ্বালান। তাদের কারণে পড়তে পারি নাই। স্যার কষ্ট করে আমাকে পাশ করায় দিবেন। অন্য বিষয়ে পাশ করব এই বিষয়টা ছাড়া। আমি যদি ফেল করি তাহলে আমাকে আমার স্বামী তালাক দিয়ে দেবেন। স্যার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও আমাকে পাশ করায় দিবেন। স্যার একটু দয়া করেন। আমাকে পাশ করালে তো আপনার ক্ষতি হবে না। প্লিজ পাশ করিয়ে দিবেন।"

হাতের লেখা বেশ সুন্দর। কিন্তু পড়ালেখায় এই হাল কেন? পরীক্ষায় খাতায় অপ্রাসঙ্গিক কিছু লেখা সম্পূর্ণ নিষেধ। কিন্তু এই মেয়ে এসব লিখল কেন? এই মেয়ে কি তা জানে না?

লোপাকে দেখাতে ইচ্ছা করে। কিন্তু লোপা তো পাশের ফ্ল্যাটে। খাতাটা আলাদা করে রাখে মামুন। অন্য খাতাগুলো কাটছে।

কলিংবেলের আওয়াজ। কাজের মেয়ে আছে পাকঘরে। তার অপেক্ষা না করে মামুন নিজে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। খাতাটা এক্ষুনি না দেখিয়ে শান্তি পাচ্ছে না সে।
দরজা খুলেই বলে, লোপা, একটা মজার ব্যাপার হয়ে গেছে।
:কি?
আলাদা করে রাখা খাতাটা লোপার দিকে বাড়িয়ে দেয়। “ পড়ে দেখ”

পড়া শেষ হয়। মামুন ভেবেছিল লোপা মজা পেয়ে হেসে উঠবে। কিন্তু এই কি? লোপা লেখাটা পড়ে গম্ভীর হয়ে গেছে কেন?

গম্ভীর হয়ে লোপা ঘোষণা করে, এই মেয়েকে তুমি পাশ করিয়ে দেবা।
-বলো কি? কোন ভাবেই সম্ভব নয়।
-কেন? সম্ভব নয় কেন?
খাতার আগের পৃষ্ঠা গুলো উল্টিয়ে দেখায় মামুন। দেখো এই মেয়ে সব মিলে পেয়েছে তেরো। বিশের উপর পেলে চেষ্টা করা যেত।
-হা দেখছি। কিন্তু তারপরও তো ইচ্ছা করলে পাশ করিয়ে দেওয়া যায়। তুমি চিন্তা করো এই একটা পাশ দ্বারা এই মেয়ের বিয়েটা টিকে যাবে। পাশ করালে তোমার তো কোন ক্ষতি হচ্ছে না।

-ঐ মেয়ে হয়ত মিথ্যা লিখেছে। আর এরকম পাশ করানো তো অন্যায়।
-তুমি নিশ্চিত জানো সে মিথ্যা লিখেছে? জানো না যখন ধরে নাও ঐ মেয়েটা সত্যই লিখেছে। আর একটা অন্যায় করে যদি একজনের সংসার টিকিয়ে রাখা যায় সেটা করা তো ভাল।

মামুন ঘাবড়ে যায়। লোপা এই লেখা দেখে এভাবে ইমোশনাল হয়ে পড়বে তা চিন্তা করে নাই। চিন্তা করলে এই খাতাটাই দেখাতো না। এখন আফছোস হচ্ছে কি জন্য যে দেখালো।

লোপার মুখের গম্ভীরতা কমে না। মেয়েটার কথাকে লোপা সত্যি বলে ধরে নিয়েছে। মামুন বলে, তুমি বুঝার চেষ্টা করো।

লোপা থামিয়ে দেয়। উঠে দাঁড়ায়। “এই মেয়েকে পাশ না করানো পর্যন্ত আমি তোমার সাথে কোন কথা বলছি না। এর পরে আমার সাথে তোমার প্রথম কথা হবে, মেয়েটাকে পাশ করিয়েছি। সেটা বলতে পারলে আমার সাথে কথা বলতে আসবা। অন্যথায় কোন কথা না।”

এটা বলেই চলে যায় লোপা।

মামুন চিন্তায় পড়ে যায়। কিজন্য যে দেখাতে গেল?


এক ক্লিকে চলে যাওয়া কাংখিত ব্লগারের কাছে !!


গল্প গুলো লিংকসমূহ----
৩৫. অপরাধী ( গল্প )
৩৪. ইয়া-হু ( গল্প )
৩৩. পঞ্চ তারা (গল্প)
৩২. রংচটা জীবন( গল্প )
৩১. আমারে কেউ জানেনা ( গল্প )
৩০. লুকোচুরি ( গল্প )
২৯. নামহীন কৈশোর ( গল্প )
২৮. রাত এবং ভালোবাসা ( গল্প )
২৭. বাস্তবতা ( ক্ষুদ্র গল্প )
২৬. পতাকা ( গল্প )
২৫.প্রতিযোগিতা ( গল্প )
২৪. মুক্ত হওয়া গেল!! ( গল্প )
২৩. শিক্ষা ( গল্প )
২২. কিছু কিছু ( গল্প )
২১. নির্বাক ( পিচ্চি গল্প )
২০। ইচ্ছা ( পিচ্ছি গল্প )
১৯। বৃষ্টি ধুয়ে মুছে দিয়েছে ( কাঁচা হাতের গল্প- ০১৫ )
১৮.উদ্দেশ্যহীন ( গল্প )
১৭. উচ্ছ্বাস (গল্প)
১৬. অন্যরকম কৃতজ্ঞতা ( কাঁচা হাতের গল্প - ০১৪)
১৫; নাক ডাকা ( অনুগল্প )
১৪, নোংরা প্রতিশোধ ( গল্প )
১৩.১টি সম্পূর্ণ ক্ষুদ্র গল্প!কয়লা !
১২. গল্প- শেষ চিঠি
১১. এক সমাজ বিচ্ছিন্ন ভালোবাসা (কাঁচা হাতের গল্প ০১২)
১০. লাইপ্রু (কাঁচা হাতের গল্প-০১০)
০৯. নিহত প্রেমিকের আত্ম কাহিনী (কাঁচা হাতের গল্প ০০৯)
০৮. উপহার (কাঁচা হাতের গল্প-০০৮)
০৭. অন্ধ প্রেম (কাঁচা হাতের গল্প ০০৭)
০৬. বিজ্ঞান মেলায় (কাঁচা হাতের গল্প-০০৬)
০৫. কাইসা (কাঁচা হাতের গল্প-০০৫)
০৪. শ্যামা (কাঁচা হাতের গল্প-০০৪)
০৩. শান্তি কানন আর নেই (কাঁচা হাতের গল্প-০০৩)
০২. পুলিশের সহিত ( কাঁচা হাতের গল্প-০০২)
০১.অভিমান (একটি গল্প)
৩৭ টি মন্তব্য
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ০০:৪৯
আজ কেউ নাই, তাই আমিই প্রথম হইলাম।
হা হা হা।
amjewel জুয়েল১২২১ জুন ২০১০, ০১:০০
আমি ১ম আপাতত বুকিং দিয়ে গেলাম .....
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ০১:০২
ভাই আপনি দ্বিতীয়।
আমি প্রথম।
খেলা কেমন লাগছে শেষে জানাতে ভুলেন না।
amjewel জুয়েল১২২১ জুন ২০১০, ১৫:০৯
আপনারে মাইনাস .....
আমার নাম মামুন দেখিয়া আমারে বিয়া করায়ে দিলেন ? খেলুম না আমি এত তারাতারি বিয়া করিয়া মরতে চাই না । কিন্তু আপনার লেখা ভাল হয়েছে ....খাটি বাংলায় বলিতে গেলে ..বলিতে হয় ইয়া আপনি কি লিখিলেন,আরেকখানা অসাধারন গল্প আমাদের উপহার দিলেন । যাহা হোক ভালো লাগিল ভালো থাকবেন ।
boipoka বই পোকা২১ জুন ২০১০, ০১:০৪
কেমন বিপদে ফেলে দিলেন মামুন স্যারকে। এখন কী হবে?
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ০১:০৬
হা হা হা।
অনেক দিন পর আপনার মন্তব্য পেলাম।
ভাল লাগছে।
ধন্যবাদ অর্ধমিতা ভাই।
কেমন আছেন?
এত অনিয়মিত কেন? ব্যস্ত?
শুভ কামনা সব সময়।
shajedunnahar সাজেদুন নাহার২১ জুন ২০১০, ০১:০৭
“স্যার দয়া করে আমাকে পাশ করায় দিবেন। ২য় বর্ষে উঠতেই আমার বিয়ে হয়ে গেছে। আমার শ্বাশুড়ী অনেক যন্ত্রণা করেন। বাসায় ননদরাও খুব ফ্যাশনেবল। সব কিছু করে ঐ পড়ালেখা ছাড়া। শ্বাশুড়ী অনেক জ্বালান। তাদের কারণে পড়তে পারি নাই। স্যার কষ্ট করে আমাকে পাশ করায় দিবেন। অন্য বিষয়ে পাশ করব এই বিষয়টা ছাড়া। আমি যদি ফেল করি তাহলে আমাকে আমার স্বামী তালাক দিয়ে দেবেন। স্যার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও আমাকে পাশ করায় দিবেন। স্যার একটু দয়া করেন। আমাকে পাশ করালে তো আপনার ক্ষতি হবে না। প্লিজ পাশ করিয়ে দিবেন।"---------------------------------------------------------আমার সুরের ভুবনের একটা খাতায় সেইম লেখা পেয়েছে---------শুধু স্বামী তালাক দেয়-এর জায়গায় বউ চলে যাবে লেখা-------------
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ০১:১০
হা হা হা।
ঐরকম হলে তো লেখা আরো বেশি জমত।
পাশ করায় দেওয়া হয়েছিল?

ধন্যবাদ নাহার আপু।
শুভ কামনা সব সময়।
shajedunnahar সাজেদুন নাহার২১ জুন ২০১০, ০১:১৩
আলাদা করে রেখেছি, কি করব ভাবছি।
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ০১:১৪
চোখ বন্ধ করে পাশ করায় দেন।
বউ মানুষের একটাই থাকবে। সে বউ যদি চলে যায়।
তাই একটাই পথ, পাশ করিয়ে দেওয়া।
ayesha আয়েশা২১ জুন ২০১০, ১১:৩২
সর্বনাশ! একাজ জীবনেও করবেন না।বরং আল্লাহ কাছে দোয়া করেন।ওই ব্যাক্তি যেন সামনের বার ভাল করে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারে।
boipagol বই পাগল০৪ অক্টোবর ২০১০, ১৭:১৭
আয়েশা আপু অনেক দিন আপনাকে দেখি না।
কই গেলেন। ব্লগে আসেন না কেন?
অনেক অনেক শুভ কামনা।
AhmedMahirs আহমেদ মাহির বিশ্বাস২১ জুন ২০১০, ০৩:৪৪
ভাই,

(সাধারন পাঠকের মত করে মন্তব্য করছি ; যা সত্যিকার অর্থেই আমি ...) দারুন লিখেছেন !

(এবারে খানিকটা বিজ্ঞের অভিনয় করা যাক । আমার ফুল রিমের চশমাটা খানিকটা নাকের
নীচের অংশে নামিয়ে নিলাম । ভ্রুঁ-সন্ধিতে কয়েকটা কুঁঞ্চনও আনলাম । ...) গল্পের
কথপকথন, গল্পকে গতিশীল করেছে । বচনভঙ্গি ও গল্পের বিস্তার গল্পে ছোট গল্পের
আস্বাদন এনে দিয়েছে ।

________________________________________________

শুভকামনা রইল ! ভাল থাকুন সব সময় ।

জিনিষ = জিনিস । ***
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ০৯:৩১
আমার ফুল রিমের চশমাটা খানিকটা নাকের
নীচের অংশে নামিয়ে নিলাম ।
হা হা হা হা।

মাহির ভাই অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা সুন্দর এই মন্তব্যের জন্য।
ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু জিনিস শব্দটা খুঁজে পাচ্ছি না।
শুভ কামনা সব সময়।
pabits ছেলেবেলা২১ জুন ২০১০, ১০:০১
খুব আগ্রহ নিয়ে আগাচ্ছিলাম। শেষের দিকে হতাশ হয়েছি। মাঝ মাঠ থেকে বল টেনে এনে লক্ষ্য ভ্রষ্ট শটের মত!

স্যরি মুন্না ভাই।
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১০:০৬
ধন্যবাদ ছেলেবেলা ভাই।
সরি কেন?
যেমন লেগেছে ঠিক তেমন বলে দেওয়ার মধ্যেই তো সত্য প্রকাশ।
আর তা আমার জন্য যথেষ্ট মঙ্গল জনক। আরো লিখব যে। কেমন লাগছে তা সরাসরি জানা আমার খুব প্রয়োজন।
আপনাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা। যা মনে হবে তা বলে দিবেন।

আসলে গল্পের মূল থিম ছিল ঐ পরীক্ষায় খাতায় ছাত্রীর আবদার। কাল গল্প করছিলাম। তখন একজন বলল পরীক্ষায় খাতায় এভাবে লিখেছে। শুধু ঐটুকুই শুনেছি। চিন্তা করলাম গল্প লিখে ফেলি।
তা রাতে লিখে ফেললাম।
শুভ কামনা সব সময়।
pabits ছেলেবেলা২১ জুন ২০১০, ১০:২৯
ধন্যবাদ মুন্না ভাই। কেমন আছেন?
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১০:৩১
জ্বী ভাল আছি।
আপনি?
pabits ছেলেবেলা২১ জুন ২০১০, ১০:৩৫
আমিও ভাল তবে গতকাল ইতালি ভাল খেলেও জিততে পারল না। তাই মন খারাপ। জ্বালা আরও বাড়ায় দিল আইভরি কোষ্ট!
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১০:৪৯
আসলে এই ফুটবল খেলা অঘটনের খেলা।
তাই ভাল খেলেও অনেক সময় ভাগ্যের নির্মমতার কারণে জেতা যায় না।
সামনে ভাল করবে আশা করি ইতালি।
শুভ কামনা সব সময়।
hiractg হীরা-সিটিজি২১ জুন ২০১০, ১০:৪৪
এইটা কি করলেন ভাই????/
এইভাবে কুবুদ্ধি দেয়া কি ঠিক হইলো??
এখন তো সব ফাঁকিবাজ ছাত্র-ছাত্রীরা এই ভাবে পাস করার চিন্তা ভাবনা করবে......।
আর লোপার মত কোমল হৃদয়ের শিক্ষক পাইলে তো আর কথাই নাই......
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১০:৪৭
হা হা হা ।
ধন্যবাদ হীরা আপু।
অ-নে-ক দিন পর আপনার মন্তব্য পেলাম।
ভাল লাগছে।
আপু ছাত্রীর আব্দারটা কিন্তু সত্য। এই বছর এইচ এস এস সি পরীক্ষায় এক খাতায় এরকম লেখা হয়েছে।
লোপা শিক্ষক না তো। শিক্ষক তো মামুন।
লোপা হচ্ছে শিক্ষরের স্ত্রী।
শুভ কামনা সব সময়।
আমাদের ম্যারাডোনা কেমন আছে?
hiractg হীরা-সিটিজি২১ জুন ২০১০, ১১:০৩
লোপা যে শিক্ষক না সেটা তো গল্প পড়েই বুঝেছি.....।
আমি বলেছি ....লোপার মত কোমল হৃদয়ের শিক্ষক....।
মানে শিক্ষকের হৃদয় যদি কোমল হয়....তাহলেই তো কেল্লা ফতে.....

হ্যা অনেক দিন পরে মন্তব্য করেছি....।
ব্লগে নিয়মিত আসি কিন্তু লগইন করি না.....।
আর করেই বা কি হবে?
আমাকে তো কেউ খোজে না.....।

ম্যারাডোনা ভালো আছে.....।
নতুন নতুন কথা শিখছে তো.....মজা লাগে ওর কথা গুলো শুনতে...
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১১:০৮
মানে শিক্ষকের হৃদয় যদি কোমল হয়....তাহলেই তো কেল্লা ফতে.....
তবে সেটা খারাপ হয় না।
অল্প পড়ে পাস। শুধু একটা সেরকম ভাবে রিকোয়েস্ট লিখতে পারলেই হলো।
আপু মিস করি। আসলে ভেবেছিলাম ব্যস্ত। তাই কম আসেন।

ঐই অল্প বয়সের আধো কথাগুলো অনেক মজার।
আমারো শুনতে ইচ্ছা করছে।
মাঝে অনেক বিজ্ঞ বিজ্ঞ কাজ করে ফেলে। যা আরো বেশি মজার।
অনেক অনেক শুভ কামনা আর আদর ম্যারাডোনার জন্য।
hiractg হীরা-সিটিজি২১ জুন ২০১০, ১১:১৮
আরে বিজ্ঞ বিজ্ঞ কাজ মানে..... আজ সকালে চানাচুর খেয়ে বাটিটা নিয়ে বেসিনে চলে গেছে ধোয়ার জন্যে.....যদিও বেসিনটা সে নাগালই পায় না......
আর কাল রাতে তো সে যা বলেছে আমি তো টাসকি খেয়ে গেছি.......।
ও ওর আব্বুকে বলছে.....বিয়া তম্বু.....
মানে বুঝেছেন??
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১১:২২
হুম মজার তো। ভাল নিজেই চলে গেছে বেসিনে। সচেতন।
আপনাকে কষ্ট কম দিবে। নিজের কাজ নিজে করবে। এটা আপু আপনার জন্য একটা ভাল পূর্বাভাস।
.....বিয়া তম্বু....

হা হা হা ।
বুঝছি বুঝছি।

কিন্তু একটু টাসকি খেয়েছি অন্যদিকেও।
এই আবদার সহজাত ভাবে মা-কে বলা হয়।
কিন্তু মা-কে না বলে বাবাকে বলা। ( অবাক হওয়ার ইমো হবে )
hiractg হীরা-সিটিজি২১ জুন ২০১০, ১১:২৮
আমাকেও বলেছে.....।
সন্ধ্যা থেকে কয়েকবারই বলেছে.....।
কিন্তু আমি কাজের ব্যস্ততার কারনে ভাল করে খেয়াল করিনি.....।
তারপর রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় ওর আব্বুকে বলেছে....
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১১:৩৭
মা বাবা দুইজনকেই যখন বলছে বুঝা যাচ্ছে সে ছেলে খেলা হিসাবে বলে নাই।।
আপু দাওয়াত পাচ্ছি কবে?
hiractg হীরা-সিটিজি২১ জুন ২০১০, ১১:৫২
ওরে বিয়ে দিয়ে এবার ওর বউসহ আমারে লালন-পালন করতে হবে......
স্বপ্ন কেই আমি ওর নানুর কাছে রেখে অফিসে যাই.....
আর ওর বউকে কিভাবে রাখবো......?
এমন করা যায় .....
ওকে রাখতে পারবে.....ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করাতে পারবে......
এরকম একটা মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে পারলে আমি নিশ্চিন্ত........।
abida সুলতানা২১ জুন ২০১০, ১১:০১
ভাল লাগল।
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১১:০২
ধন্যবাদ সুলতানা আপু।
ভাল লাগছে জেনে খুশী হলাম।
শুভ কামনা সব সময়।
nefaulhossainrafel রাফেল২১ জুন ২০১০, ১১:৫৩
সব লেখার নিচে এমন লিঙ্ক দেওয়াটা ভাল দেখায়না বই পাগল।
সামনের লেখাগুলোর নিচে আর লিঙ্ক দিবেন না।
কোন একটা গল্প ধারাবাহিক হলে লিঙ্ক তুলে দিতে পারেন কিন্তু....
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১৮:০৫
ধন্যবাদ রাফেল ভাই।
আসলে ভাই লিংক গুলো দিকে তাকাতে নিজেরই ভাল লাগে।
নিজের সম্পর্কে আমার আত্মবিশ্বাস কম। যখন দেখি এত গুলো লিংক গুলো আমারই গল্পের তখন অনেক ভাল লাগে। নতুন আরেকটা লেখার ইচ্ছা জাগে।
এখন কি করি????
গল্প কেমন হলো কিছু বললেন না।
কেমন আছেন?
শুভ কামনা সব সময়।
tukumona টুকুমনা২১ জুন ২০১০, ১২:০৯
বউগুলা মনে হয় একটু ইমোশনাল হয়
boipagol বই পাগল২১ জুন ২০১০, ১৯:১৪
বউগুলা মনে হয় একটু ইমোশনাল হয়
হা হা হা।
ধন্যবাদ টুকুমনা ভাই।
শুভ কামনা সব সময়।
208 রনি .২৫ জুন ২০১০, ১২:১৯
বেচারা মামুন স্যার , বউ দেখিয়ে বিপদেই পড়লেন।
বাস্তবে এমন লেখা দিলে হয়তো মার্ক বাড়ার বদলে কমতে পারে ।

তবে আমার কাছে মনে হয় পরীক্ষার খাতার মার্ক কিছুটা হলেও স্যারের বউয়ের উপর নির্ভর করে । খাতা দেখার সময় যদি স্যার বউয়ের সাথে ঝগড়া করেন তাহলে নির্ঘাত ঐ খাতায় কিছুটা হলেও মার্ক কম পড়বে । আর স্যার খুশী মনে থাকলে তো .....।
boipagol বই পাগল০৪ অক্টোবর ২০১০, ১২:৩৮
রনি ভাই ধন্যবাদ।
বাস্তবে এমন লেখা দিলে হয়তো মার্ক বাড়ার বদলে কমতে পারে ।
তবে আমার কাছে মনে হয় পরীক্ষার খাতার মার্ক কিছুটা হলেও স্যারের বউয়ের উপর নির্ভর করে ।


ঠিক ঠিক।

আচ্ছা রনি ভাই আপনি কোথায়?
প্রতিটাতে গল্পে আপনাকে পেতাম। অথচ এখন ব্লগে আসেন না। মিস করি খুউব।
কেমন আছেন?
শুভ কামনা সব সময়।