মৃত্যুর আগে ওর মুখে কি ভয় দেখেছো?
না ভয় ছিলনা-
ছিল শুধু অপেক্ষা, কিছুটা তাচ্ছিল্য
আর চলে যাবার জন্য তাড়া ছিল।
পাংশুর মুখ আর রক্তবর্ন দুটি চোখে
মিনতি ছিল না- ছিল বিস্তর প্রস্তুতি।
জীবন চুষেছে সব শক্তি সেই কবে,
শুধু বাকী ছিল তার খর্ব দেহখানী
তাও বিকোয় সে আজ কিছু পুন্যবান...
সেই দুরন্ত ছেলেবেলা-
দুটো টাকা জমলেই ছুটতাম দোকানে।
একটি লাল রঙের ঘুরি আর এক রিল সুতো।
আর সেইতো প্রথম ভালবাসতে শেখা।
মায়াজালের মত ছিল সময়টা।
সমস্ত ধ্যান, জ্ঞান জুড়ে থাকত স্বপ্নের নাটাই আর ঘুড়ি।
সুতোকে শক্ত করার ছিল কত কসরত, যাতে কেটে না যায়,
আর কাগজ জোড়া দিয়ে বানাতাম ঘুড়ির লেজ।...
লোপা, এই লোপা, ওঠ মা, সকাল ছয়টা বেজে গেল, পড়তে হবেনা, তোর না পরীক্ষা। বাসি ঘর ঝাট দিতে দিতে বলে যায় জ়াহানারা।
উহঃ মা বিরক্ত কর নাতো, আরেকটু ঘুমুতে দাও বলেই পাশে শোয়া ছোট বোন মিথীলাকে জড়িয়ে ধরে লোপা। মায়ের সকাল ছয়টা মানে নিশ্চিত সকাল পাচটা। কে যে এই আরাম-আরাম ঘুম হারাম করা পড়াশুনা...