মনে পড়ে এক রোদের বিকেল খেলার ফাঁকে দৌড়ে আমি ঢুকে গিয়েছিলাম তোমার ছায়ায়
হঠাত্ করেই উলোট পালোট তোমার পুতুল বিয়ের খেলনা বাটি
তুমি খুব রাগ দেখালে
মায়ের কাছে নালিশ দেবে ভয় দেখালে
আমি তখন বাচ্চা ছেলে তোমার কাছে দুধের শিশু
তোমার পেছনে তখন থেকেই স্কুলের বড় ভাইদের লম্বা লম্বা লাইনের সেতু
আমি...
আমি স্বভাবে ভীতু হলেও অনেক কঠিন মুহূর্তে দেখেছি নার্ভ শক্ত রাখতে পেরেছি | যুক্তি দিয়ে সব কিছুর ব্যখ্যা করতে চাওয়া আমার স্বভাব, কিন্তু অন্যের সমস্যার যুক্তি দিয়ে সমাধান করা গেলেও নিজের টা সমাধান কখনো ই নিজে করা যায় না | আজ আমার সাথে যা হয়েছে এটাকে অতিপ্রাকৃত না বলে পারছি না, কোন ভাবে যুক্তি দিয়ে...
এমন উষ্ণ দুপুরে আমার কিছুই করার থাকে না
প্রকৃতির মতো ঝিম মেরে পড়ে থাকা ছাড়া
রাতের সবুজ এই সময় বিবর্ণ হয়ে আসে
আকাশের বিবর্ণতার সাথে
এই সময় কোন সুর আমার ভিতর ঢোকে না
ঢোকে না কোন কবিতা,
কুকুরের মতো জিহ্ব দিয়ে টেনে টেনে শ্বাস নিয়ে
রক্ত পানি করে ভিজিয়ে দেয় নীল গেঞ্জি লোনা ঘাম,
কোথায়...
কেমন আছি জানিয়ে একটা চিঠি লিখেছিলাম
জানিয়ে ছিলাম এখানের খবর
জানিয়েছিলাম এই জৈষ্ঠ্যেও এখানে প্রচন্ড ঝড়
তুমি বিস্ময় প্রকাশ করেছো,
তুমি তোমার ফিরতি চিঠিতে লিখেছো তোমাদের ওখানে ভয়ংকর রোদ
কোন বৃষ্টি র দেখা নেই, দেখা নেই ছায়ার
জৈষ্ঠ্য যেমন হয় দূর্বিসহ ঠিক তেমন;
এ কথার হাজার রকম অর্থ ধরে...
প্রতীক্ষায় থেকো না আসবো না আমি
তোমার ভাগ্য নষ্ট প্রেমিকের সাথে লেখা
তোমার পবিত্রতায় সে পাবে শুধু উদ্দীপক কামুকতা
সে নখে কাঁটবে পাঁপড়ি ছিঁড়বে
প্রয়োজন শেষে চলে যাবে পায়ে পিষে,
নয়তো তুমি ভোগ্য পণ্যের মতো বাজারে উঠবে
অমূল্য হয়েও পাঁচ টাকায় বিকোবে
বিশেষ দিনে যা সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের...
এখন আর কিছুই আগের মতো নেই
এখন উঠান পেড়লেই ভুলে যায় ঘরের কথা
পরিত্যক্ত আলতার শিশি উল্টে গেলে রং না রক্ত চিনতে পারি না
আমার কিছু মনে পড়ে না|
সারা রাত স্বপ্ন দেখে সকাল হলে সব ভুলে যায়
কে ছিলো কে আলিঙ্গনে বেঁধে ছিলো
এ হাত কে ছুঁয়েছিলো
আমার কিছু মনে পড়ে না,
মনে পড়ে না কবে শেষ মেনে...
তুমি চলে যাবার পর ভরা বর্ষায় ও চৈত্রের রোদে পোড়ে আমার অনাগত ফসলের ক্ষেত
একটি লতা গুল্ম ও জন্মে না সেখানে,
সেখানে শুধু মৃত্যু আছে কোন জন্ম নেই
জন্ম নেই ফুলের
জন্ম নেই মৌপিয়াসীদের গুঞ্জনের
পুনঃজন্ম নেই হেমন্তের শেষে আম্র মুকুলের
এ যেন এক গভীর ষড়যন্ত্র একটি আগাছাও হবে না সেখানে,
একটি...
চিঠি দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই
দিয়োনা না হয় চিঠি
খামে তুলে দু লাইনের কবিতা
অথবা দু'টি শব্দ "ভালো থেকো"
চিঠি দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই |
জানি না কখন বৈশাখ আসে কখন আষাঢ়
কতোটা সময় পেরোলে সোনালী হয় সবুজ জমিন
শোধ করে কৃষকের ঋণ,
কথা রাখে কিনা অতিথী পাখিরা সরোবরের কাছে
"আবার দেখা হবে...
এ প্রেমে কতটা ভালোবাসা আমি জানি না
জানি না তার কতটা খাঁটি
জানি তোমার হেয়ালী দেখে ব্যথিত হই
তোমার পাশে অন্যকে দেখে ঈর্ষায় পুড়ি
ভয়ে কুঁকড়ে যায় অন্যের সাথে তোমার ঘনিষ্টতায়
এ প্রেমে কতোটা ভালোবাসা আমি জানি না....
সহস্রবার করমর্দন আলিঙ্গন চুম্বন
সুবাসিনী দের উদ্ধত বক্ষ আর নোংরা অশুচি পাপ ঘেটে ঘেটে আমি এখন পৃথিবীর নিকৃষ্টতম লোক
যার চুম্বনে পাথরে জীবন আসে
আলিঙ্গনে ৮৮-র বন্যা
যার দৈনিককার তৈল চিত্র জুড়ে কলঙ্কের ছাপ |
আর্ট গ্যালারীর যে স্থির চিত্র আজ জাতীয় পদক ছিনিয়ে নেয়
যে সল্পবসনা পোট্রেট দেখে...
যতবার সামনে এগোব বলে মনস্থির করি
কে যেন পেরেক এঁটে দেয় অদৃশ্য দেয়ালে
মেঝের সাথে পা দেয়ালের সাথে শরীর
পাথর সম পা নড়ে না, দেহ চলে না
এক পা ও এগোতে পারি না |
কে যেন দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো ঘিরে ফেলে
ডুবিয়ে নেয় নিঃস্তরঙ্গ নদীতে হঠাত্ ই পূর্ণ জোয়ার এনে,
একবার স্নানের জন্য নামলেই টেনে...
দেখেছিলাম কোন এক কালে অনন্ত নক্ষত্রের তলে
বয়ে চলা জ্যোত্স্না নদীতে পা ডুবিয়ে থাকা
কোন এক হরণীর প্রতিচ্ছবি
বাতাসের টানে কেঁপে উঠা কম্পিত জলে,
দ্বিতীয় বার তাকে দেখিনি সেখানে
তবে তার পায়ের ছাপ ধ্রুব সত্যের মত বসে গিয়েছিলো অন্য কোন নদী তে অন্য কোনখানে|
তার কাছে ফেরার চেষ্টা ছিলো সব...
আমায় তুমি তোমার চুলে আলতো করে হাত রাখতে দেবে ?
ঠিক দুপুরে তোমার ছায়ায় হাটতে দেবে ?
শ্রাবণ দিনে এক ই ছাতার তলে থাকতে দেবে ?
আমায় তুমি চোখের মাঝে চোখের ছবি আঁকতে দেবে ?
"অনেক চাওয়া উফ্....বাদ দাও" বলে এড়িয়ে যাওয়া, আর কতো দিন ?
চেয়েছি খুব সামান্য কিছু ই,
পাইনি বলে হয়তো লুকানো ব্যথা থাকতে...
তোমায় ভুলি কি করে
আমি তো বৃক্ষ নই এক বসন্তের পাতা ঝরিয়ে অন্য বসন্তে সাজাবো ডাল
মাটি ভেদ করে নামাবো শেকড়
এক স্তর থেকে আর এক স্তরে;
তোমায় ভুলি কি করে
আমি তো চাঁদ সওদাগরী জাহাজ নই
এ বন্দরের স্মৃতি মালামাল
নামাবো অন্য বন্দরে
তুলে নেব রত্ন হীরা জহরত হৃদয় হাটে হাটে বেচে |
তোমায় ভুলি কি করে...
এ বার তুমি ভালোবাসতে পারো
অনেক যুদ্ধ শেষে বসিয়েছি দুর্ভেদ্য তারকাটা সীমান্তে
এখন আর ঘর গড়তে হবে না একের পর এক পাথর টেনে
এখন ইট কাঠ পাথরেরা হারিয়েছে উপযোগীতা
নাগরিক কোলাহল মুছে দিয়েছি নিয়ে নিসর্গতা;
এ বার তুমি ভালোবাসতে পারো,
এ বার আর কারো কল্পিত ছায়া দেখবে না
প্রহরীর মতো জেগে থাকতে...
কাল তুলেছি মাথায়
খুব বেশি কি অন্যায় হবে আজ যদি পায়ের নিচে নামায়
তুমি তো সেই পরাশ্রয়ী ভালো মত ই খাঁমচে ধরে উঠতে পারো হৃদয় মাটি
ইচ্ছে মতো নিচে নামতে পারো
পরগাছার মত ই সব টুকু রস শুষতে পারো
যেখানে খুশি, হোক তা কঠিন পাথর কি নরম মাটি;
ঋতু ব্যতি রেখে ই মোহনীয় ফুল ফুঁটিয়ে আনতে পারো নতুন ভোঁমড়...
আমার কিছু চাওয়ার ছিলো
চাওয়া হলো না
যমুনার খাদের পাশে দাড়িয়ে শুধু দেখেই গেলাম
ভাসিয়ে নেওয়া স্বপ্নসম গৃহস্থলি
খরস্রতায় মিলিয়ে গেলো পূজোর ফুল, মেলার পুতুল
শিবের পাথর, খেলনা গাড়ি;
বললাম তারে সব তো নিলি,আমায় নিবি ?
ফিরিয়ে দিলো সে স্বর্বগ্রাসী, জ্যান্ত পাথর সে নেবে না
ফিরেই এলাম শূণ্য...
কিছু লিখতে হবে ?
কিছু লেখা কি খুব জরুরী ? খুবই জরুরী ??
মনে হয় না, আমি জরুরী কাজ কখনো করি ও না,
ওটা জমিয়ে রাখি |
মূল্যবান জিনিস যেমন
জমিয়ে রেখে রেখে অমূল্য হয়ে যায়,
শখের তোলা শাড়ি যেমন অতি আদরে তুলে রেখে পোঁকায় কাটে
পড়ে ভাঁজে ভাঁজে দাগ,
আমার সব জমানো জরুরী কাজ ও অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে থাকে, এটাও না হয় জমানো থাক..... ;)