তবে তাই হোক, তুমি নয়
আমার শব যাত্রার সাথী হোক কিছু অচেনা অর্কিড ,
সেগুলো বুনো , কোন গন্ধ নেই
তাতে কি? অভিমানে ভাসাবে না সে ফুল
তবে তুমি ভেবো না
আমার নিঃশব্দ কান্না তোমায় স্পর্শ করবে না ,
কোনোদিন হয়তো ভুলেছিলাম
এইসব বুনো অর্কিড
আমার গোপন অভিসারে ; তোমার দুচোখ জুড়ে
নীরবতার আখ্যান শেষ...
কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ ডুবে গেছে বহু আগেই
মেঘের আড়ালে ডুবে গেছে মেঘ
সব যেন একপেশে ; বাতাসে অস্পষ্ট কোলাহল
পানকৌড়ির মতো ডুব দিয়ে আবার আঁধারে মেলায় কে?
যেন ডেকে যায় আমায় , বড় মৃদু কণ্ঠে
আমি নিশাচরের মতো উৎকর্ণ হয়ে শুনি
জেগে থাকি সারারাত; আঁধারের সাথে
বড় ইচ্ছে হয় লুকিয়ে যাই মড়া পাতার...
এখানে এখন মৃত্যুর মিছিলে
লাশের সারি; কটু গন্ধ, দগদগে ঘা
ঝলসে যাওয়া চামড়ায় যন্ত্রণার চিহ্ন
তাকানো চোখে তিব্র ঘৃণা ; তোমাদের প্রতি,
যারা বাজার দরে মৃত্যু ফেরি করে।
এরা সব সৈনিক ; মৃত্যুর মিছিলের
বেঁচে থাকাটা বড় কষ্ট! বড় অবহেলার,
প্রতিদিন চামড়া কেটে যায় সার্জিকাল চাকু
তবে তাতে কোন...
পৃথিবী ঘুমায় যখন গোধূলির বুকে
আমার সারাবেলা কেটে যায়
বকের দল সার বেঁধে
উড়ে যায় পাখা ঝাঁপটায়
মেশে গিয়ে দিগন্তের বুকে।
পৃথিবীর বুক জুড়ে আঁধারের কোলাহল
ঘিরে আসে চারদিক
খোলা ঢেউ পাল তোলা নৌকার পাটাতন
কাটে কিছুক্ষণ মেঘবালিকার সাথে।
পৃথিবী ঘুমায় যখন গোধূলির বুকে
লাল রং মেখে নেয়...
আমি কখনোই বিদ্রোহী হতে চাইনি
আমি যে চেয়েছিলাম ঘাসফড়িঙের সুখ
শিশিরে মেখে থাকা ঐ ঘাসের ডগায়
মিশে আমি একাকার হবো ।
আমি চেয়েছিলাম ঘাসফড়িঙের মতো
সারা সকাল সবুজের বন জুড়ে
এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্তে
হালকা ডানায় উড়ে বেড়াবো।
আমার ঘাসফড়িঙের মনেরা আজ সব বিদ্রোহী
এরা মিছিল করে; স্লোগান...
বিরাট যন্ত্রণার মধ্য আছি । বিয়ে সংক্রান্ত যন্ত্রণা । এই বিষয়টা যে এতটা যন্ত্রণার আগে বুঝতে পারি নাই । অবশ্য বুঝলেই যে অনেক কিছু করতে পারতাম এমন না । এখন আসল কথা বলি । গত কয়েকদিন আমি রাস্তা ঘাটে বের হওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছি । তবে অন্য কিছু ভাববেন না । কারো সাথে আমার সমস্যা নাই । সবাই আমাকে...
কবি,
এবার থামাও কলম
ঝরে পড়ুক কবিতার শব্দ
তোমার কবিতা কি দিয়েছে আমায় বল?
ধুলোয় লুটানো পথ শিশুকে কোলে তুলে নিতে পেরেছ আজো?
পেরেছ কি বুভুক্ষ মানুষের মিছিল ঠেকাতে?
কবি,
তোমার কবিতায় অহংকার আর আবেগ
বাজার দরে যার কোন মূল্য নেই,
যে শিশুর হাত আজো লোহার হাতুড়ি পেটায়
পেরেছ কি তাদের হাতে...
আজ বৃষ্টি হবে বলে
আমি সেই তখন থেকেই চাতক পাখি
মেঘের সাথে সওয়ার হয়ে
মিছেই ভাবি বসে,
মুক্ত ঝরা জলের কণা
বৃষ্টি হয়ে কখন যেন আসে?
তোমা য় যেদিন ভিজিয়েছিল
মেঘলা দুপুরবেলা
আমি তো সেই আকাশ পানে
প্রতীক্ষায় সারাবেলা।
সারা দুপুর ভাবছি শুধু
বৃষ্টি হবে কখন?
মাতাল মেঘের হাওয়ায়...
আজ এইমাত্র যে ভ্রূণ
মানুষের রুপ পেলো , ফুটপাতে
যার আতুর ঘর ছিল
মায়ের আঁচলে ঘেরা শতছিন্ন
ব্যাস্ত সড়কের কোলাহলে
ঢেকে যায় নবজাতকের কান্না ।
যে রক্তে মিশে আছে কোন
উঁচুতলার মানুষের বীজ
যার শিরায় শিরায় মদের জোয়ার
যার মায়ের শরীরে জেগে আছে
নেশাগ্রস্থ শয়তানের ক্ষতচিহ্ন
অথবা হাওনার...
আজ ২১ মার্চ । বিশ্ব কবিতা দিবস । কবিতা সাহিত্যর প্রাণ স্বরূপ। কবিতা প্রতিবাদের ভাষা । কবি নজরুলের বিদ্রোহী অথবা আনন্দময়ীর আগমনে কবিতার কথা ধরি । এই কবিতা কাঁপিয়ে দিয়েছিলো শাসক গোষ্ঠীর ভিত। আবার যদি সেই বিখ্যাত কবিতার লাইনের কথা বলি ‘ কাদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি ‘ যা বুকের ভেতর জন্ম...
দিদি আজ তুই কেমন আছিস?
ঠিক কোথায় আছিস বল তো?
সেই ছোট্টবেলা থেকেই মা শুধু তোর কথা বলে
তুই নাকি দেব শিশু ছিলি
সোনালী আভায় পূর্ণ ছিল তোর শরীর ।
জানিস আজ আমার কোন দিদি নেই
কারো আদরের ছোট্টও ভাই নই আমি
কেন চলে গেলি অবেলায়?
তোর দেবীর মতো মুখটা আমি কল্পনা করি
যেন আদর করিস পরম মমতায়।
তুই...
আকাশের নিলে তুমি পড়েছ শাড়ী
আকাশের সাথে তাই দিয়েছি আড়ি
এখন আর রাত্রে দেখিনা আকাশ
চাঁদকে দেখার আর নেই অবকাশ
যতই জোস্না আসুক জানালা দিয়ে
তোমাকে আমার পাশে রাখবো সরিয়ে
আমার সময় কাটে তোমাকে নিয়ে
মন সব ভরে থাকে তোমাকে জড়িয়ে।
তোমার বাড়ানো হাতে আজ
পদ্ম পলাশ ফোটে,
হৃদয় জুড়ে...
আজ মার্চের ৩ তারিখ । আন্তর্জাতিক বই দিবস । বলা হয় ‘ বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না” আমাদের সবার প্রচুর বই পরা উচিত। বই অনন্ত যৌবনা । বই আমাদের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী। সারাজীবন বই আমাদের সঙ্গ দিয়ে যায়। বই পড়ার অভ্যাস আমাদের সবাই অল্পসল্প থাকা উচিত। একজন বিখ্যাত লেখকের বই বিষয়ক গল্পটি পড়ুন।
মা- শুধু এই শব্দটি ডাকার জন্য
ঐ ওরা তাজা প্রাণসব
রাজপথে গড়ালো ,
ওদের রক্তে ভিজে গেলো রাজপথ
ওদের রক্তে ভিজে গেলো
বুকপকেটে রাখা তোমার চিঠি,
ওদের রক্তে ভিজে গেলো
বাংলার আকাশ,
ওদের রক্তে জন্ম হলো
আমার একুশ।
সেদিন ফাগুনের এমন বসন্ত ছিল
ফুটে ছিল রক্তলাল পলাশ
সব লাল মিশেছিল সেদিন
আমার...
কোন এক অলস দুপুরে
যখন পাতা ঝরা শব্দ ছাড়া
আর সব চুপ,
দখিণা হাওয়ার খোলা বাতায়নে
এমন দিনে
এলে তুমি ফাগুনে।
দিঘীর জলে সূর্য দিয়েছে উঁকি
মেঘগুলো একদিকে সরে
ঢেলে দিলো নীল সব
হাসি মাখা মুখ ভেসে ওঠে হঠাৎ
এ কোন ক্ষণে , এমন দিনে
এলে তুমি ফাগুনে।
কেবল লিখছে চিঠি তোমাকে নিয়ে
হয়নি কিছুই
না...
বড়াল নদীর তীরটি ঘেঁষে
আমার ছোট্ট বাড়ি,
তারি পাশে নৌকা ঘাটে
বাঁধা সারি সারি।
কোথাও কোথাও মায়ায় ঘেরা
কলমিলতা ভাসে,
ঢেউয়ের সুরে হারাই আমি
লাল শালুকের দেশে ।
পানকৌড়ি ডুব দিয়ে যায়
মাছ ধরার ছলে
দল বেঁধে সব নাইতে চলি
বড়াল নদীর জলে।
রাত্রি হলেই প্রাণ জুড়ানো
রাখাল বাঁশীর...
“এমন কোন শরতের সকালে আমি আর তুমি দুজনে মিলে শিউলি ফুল কুড়াবো । ফুল কুড়ানোর ছলে তোমার হাতের সাথে আমার হাত আচমকাই লেগে যাবে । তুমি একটু কেঁপে উঠবে লজ্জায় । তুমি সরিয়ে নিতে বলবে । আমি তবুও সরাবো না । বারবার ভুল করতে থাকবো ‘। কথাগুলো ফিরোজ বলেছিল সায়মাকে। দুজনেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগে পড়ে...
টেবিলের উপর আধপোড়া সিগারেট
একপাশে পড়ে আছে প্রেমার চিঠি
প্রেমা! শেষ কয়েকটা লাইন
এই যে সিগারেটের মত জীবন আজ
আধপোড়া! তার জন্য এই প্রেমাই দায়ী
তাছাড়া আর কে? বিধাতা? হতে পারে
কতবার বলেছিলাম এইটুকু জীবন
তোমার কোন কাজে লাগবে?
শোননি, কেড়ে নিলে –
বুক চিড়ে নিয়ে গেলে তাকে
আজ মনে হয়...