আমার অসুস্থ আংগুলের
নানা আহ্বান অতিক্রম করে
তুমি আজ পথে পথে
তারকা বাজাও
সন্ধ্যায় বুকের ভিতর
অন্ধকার ছড়িয়ে
চুপচাপ বসে থাকো
আমিও নানা রকম
যোগবিয়োগে বেলা কাটাই
এবং রচিত অন্ধকারের
খুব নিকটে গিয়ে একা একা
বসি
এখন আর আমার মনোরেখা
অতিক্রম করো না তুমি
আমিও সীমান্ত
অতিক্রম করিনা...
একদিন
নিষ্প্রান গন্তব্যকে স্বীকার করে
আমরা আর এগোতে পারিনি
অন্তরের ভিতর শূন্যতা নিয়ে
দু'জনেই
ছায়া মানুষ হয়ে যাই তারপর বেলা বাড়ে
বেলা বেড়ে যায়
আহত জোনাকীরা
ডুব দেয় আপণ অক্ষরের ভিতর
হাত বাড়ানো দুপুরের ছায়া
পৌঁছে যায় নিজস্ব
অন্ধকারে।
তারপর
আমাদের ঠিকানা পুড়ে...
এখন
আমাদের
একাকীত্বে
পৃথিবীর বিকেলগুলো কাঁপে
আমরা
এখন আর
অবশিষ্ট আবেগে নেই
রং ও তুলিতে নেই;
এখন
দু'জনেই একা
দু'জনেই অন্যরকম।
রংধনুর নিকটে দাঁড়িয়ে
দু'জনেই ভূলে থাকি
নিজস্ব বেদনা,
দু'জনেই হাত রাখি
অচেতন
অক্ষরের গায়ে;
এখন অলৌকিক লোহাঘরে
দু'জনেই বিব্রত।
মাথার জংগল থেকে সারাদেহে
টাপুর টুপুর আলো পড়ে
বহুবর্ণিল স্রোতের গায়ে লুটোপুটি খায়
নিজস্ব চেতনার ঐতিহাসিক অন্তর্মুখী ধারা
সুস্পষ্ট ভাংগন থেকে
প্রতিদিন ঝাপসা রোদ উঠে
পাঁচতারকা ফুলের বুকে
স্বপ্নরা ডিগবাজি খায়
তারপর আবার দাঁড়ায়
তারপর আবার দাঁড়ায়।
আমি পুরণো গন্ধে
তোমাদের সবুজ...
তোমার দুই হাতের
দশটি আংগুল এখনো
পৃথিবীর প্রাচীন বেলাগুলোতে ফিরে যায়
তোমার কবি বন্ধুরা এসব
কিছুই জানে না
অথচ সেই পুরণো কালের
শিশুরা পূর্ণিমার সবুজ আলোতে
তোমার দুই হাত নেড়েচেড়ে দেখে
তোমার বিবর্তিত দৃষ্টিগুলো
বায়ুঘর্ষণে প্রতিদিন আগুনের গান গায়
এবং আমাকে অস্থির করে
তোমার কবি...
আমার স্বপ্নের সাথে তোমার স্বপ্ন মিশে গিয়ে
ঘুরে তাকায় উঠোণের দিকে
উঠোণে নামাজের নির্জনতা
উঠোণে চুপ করে আছে তসবীর প্রহর
এভাবে তোমার সংকটময় মুহুর্তে তুমি
আমার সংকটময় মুহুর্তে আমি
উঠোণের আলোতে
নদীর নির্জনতা দেখি
আর আমাদের সন্তানদের জন্য
গোপনে আশীর্বাদ করি…
মাঝে মাঝে হাজারো স্মৃতির...
চতুর অন্ধকারে
আমার গোপন আংগুল
সবকিছু উপেক্ষা করে দরজা খুলে দেয়…
এই সুযোগে
গৃহপালিত বরফের সিঁড়ি দিয়ে
ছায়াদের সাথে পালিয়ে যায়
ঘাতক বিড়াল
আমি এক নিঃশ্বাসের সতর্কতায়
আবার স্বপ্ন দেখি
আবার সাপের বুকের উষ্নত্ততা আপন করে
বাতাসের দিকে দু'হাত বাড়াই
এবং আমি জানি
আমার আভ্যন্তরীন...
সারা ঘরে ঘুম উড়ে
ফ্যানের বাতাসে
দরজার দু'পাশে ধ্যাণ পড়ে থাকে
আমি অবিশ্বস্ত মানুষের মতো
তোমার ঘুমের পরিধি জুড়ে
আসি আর যাই
দিন শেষে
ভাষ্কর্যের মাথাগুলো উণ্মোচিত হয়
তখন চেতনায় অপরাধবোধ
জোনাকীর মতো জ্বলে
মনের পেট্রোল পুড়ে যায়
আমি শূণ্য থেকে শূণ্যান্তরে যাই
তোমার পায়ের ণূপুর...
বিব্রত চশমার কাঁচে মেঘের উড়াল দেখে দেখে
পাখীর উড়াল দেখে দেখে
আমি এগিয়ে যাই
ফল বাজারের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি
আমার অনুগত নদীগুলি মিলেমিশে
তিন ভাগ জলের মধ্যে অর্ধেক জীবন যাপন করে
কত ভাল আছি আমি এখন .... একা
তবুও আর একা লাগে না
নারকেলের ঠান্ডা ঝোপে বসে গ্রীস্মের কাক ডাকে
চলে যায়...
নিঃশ্বাস পর্যন্ত পৌছে যায় নিঃশ্বাস
জীবনের গ্রীস্ম এসে নিঃসংগ দাঁড়িয়ে থাকে
জানালার পাশে
লাল তরমুজের ভিতর ঝিলিক দেয় বেলা
পিতার কথা মনে পড়ে
মেলার কথা মনে পড়ে
ফলবাজারের কাছ দিয়ে হেটে যেতেই
হৃদয় আহ্লাদে মৃত্তিকা হতে চায়
স্যাঁতস্যাঁতে অস্তিত্তের আরাম
মুনি ঋষির ধ্যান...
শর্তের নিকটতম আশ্রয়ে গিয়ে
আমার ডান হাত কিছুটা অস্থির হয়
আমি লাল মরিচের কাছে আশ্রয় খুজি
এবং চন্দ্র মৌনতায়
মানুষের সমর্পিত প্রশ্নগুলো থেকে
নিজেকে আড়াল করি
রাতভর দুই চোখের জলে ভিজে
আমার অচল অপরাধগুলো.....
একেকটি নিঃশ্বাসের কতো যে ওজন
কোনো স্বস্তি পাই না
বজ্রে বিজলিতে
কালো...
প্রতিদিন একটি সাদা পৃষ্ঠার উপর
নানা ভঙ্গিতে ভেঙ্গে পড়ি
আমন্ত্রিত আলো অন্ধকার বুকে নিয়ে
তোমার হাসি ভুলে যাই
কপালের টিপ ভুলে যাই
চোখ চোখের কাজল
কিছুই মনে করতে পারিনা
আম জাম কাঁঠাল কামরাঙ্গা
বর্ষায় ভিজে ভিজে গন্ধ বিনিময় করে
বিশটি বছর ফিরে ফিরে আসে
সাদা পৃষ্ঠা কুঁচকে যায়
কান্না...
পৃথিবীর কত কত ভোর
হা করা পাজরের ভেতর
বাস্প হয়ে গেল
তার একটা হিসাব চোখে পড়ে
নিউটনের সবগুলো সূত্রে
এবং প্রাচীন স্কেলিটনের ছায়ায়
বেড়ে উঠা আকাশমুখী উদ্ভিদের
নির্মিত ইশারায়
তখন স্থির থাকতে পারিনা
স্থির থাকা যায় না
মাটির নিচে চাপা পরা করটিগুলো
প্রতি চন্দ্রপ্রহরে উদ্ভিদ...
আমি খুব একা গাছের ছায়ার মতো
রোদ উঠলে আমারো ছায়া পড়ে মাটিতে
বড় নিঃসংগ ছায়া বড় অসহায়
আমিও মাছের মতো
লেজ নেড়ে কথা বলি
এই শোকের মাসে
কোনো ভাষায় কোনো শব্দে
কথা বলতে ইচ্ছে করেনা আমার
পুকুরের ঘাটগুলো এতই উম্মুক্ত যে
ইচ্ছে করলে যে কেউ আমার মতো
কিছুক্ষনের জন্য মাছ হয়ে যেতে...
যদি আবার কোনোদিন দেখা হয়ে যায়
কোনো রাস্তায় কোনো স্টেশনে
অথবা কোনো ফুটপাতে
জীবনের অনেকগুলো সময় পেরিয়ে
এমন যদি হয়েই যায়
আবার দেখা হয়ে যায়
আমরা কি চিনবো না কেউ কাউকে!
জানতে কি চাইবো না কেউ কারো খবর!
কথাগুলো ভেবে ভেবে
মাঝে মাঝে তাকাই আকাশে
পাখীর ডানার মাঝে
জীবনের কি এক সুর যেন...
পুরো সন্ধ্যা জুড়ে
মাধবীর শাড়ী উড়ে
হৃদয়ের কোনে কোনে
মধুর আওয়াজ
চিক চিক করে
রাত্রির লাবন্যময় ত্বক
আমি একা
আমাকে একা রেখে
শোকেসের নির্জন সেলফে
গান গায়
কালো কাঁচের পাখী।
(প্রথম প্রকাশঃ পাক্ষিক পালাবদল, এপ্রিল'২০০৫, বাংলা নববর্ষ সংখ্যা)
নিঃসংগ বাঘের পদস্পর্শে বনের ভিতর
নদী ঘুরে একা হাওয়া ঘুরে একা
বাতাসে পশুর পশম জেগে উঠে
চকচকে মাছের পিঠে
যেমন জেগে উঠে স্মৃতি
এখানে ওখানে বন কাপে
দূরবর্তী মৃত্যুর স্মৃতি নিয়ে
শূণ্য পাঠাগারে আমাদের প্রস্তুতিগুলো
একটু একটু করে মরে যায়
এই বন আর পাঠাগার
আমাকে কোত্থাও রাখেনি
তোমাকে...
লাঠিতে ভর দিয়ে কে যেন চলে যায়
কে যেন কুয়াশা দেখে না চোখে
সাদা চুনি পাখীর দুরত্ব আঁকে ভোর
আমরা দেখিনা
শুধু বেলার ভিতর বেলা চলে যেতে দেখি
শুধু বেলা চলে যায়
টুনটুনি পাখী আর কাঁঠাল ফুলের গায়ে
তারকার মতো ফুটে উঠে
শৈশবের বিকেল, খেলার মাঠ, স্মৃতি
তবু বেলা থাকে না
বেলা চলে যায়
আজ...
কতগুলো রেখার উপর আমার ছায়া
লোহার মতো দাঁড়িয়ে আছে
বিপরীতে বেলুন ফুলছে
সাদাকালো দিনের ভেতর
আমি এক গুনছি দুই গুনছি
সময় দিচ্ছি সময় নিচ্ছি
শহরের সব লোহাগুলো
আমার দিকে তাকিয়ে আছে
দূর পাহাড়ে শেয়াল ডাকছে
ভুলেও তোমরা ফুল এনো না
তারপর আমি এক গুনছি দুই গুনছি
একটি দেয়াল দুইটি দেয়াল
শুধুই দেয়াল...
দেখলাম দ্বিধান্বিত বিকেলে
আর কোনো কিছুই গোপন নাই
ইতিহাসের কাছাকাছি এসে
লাজুক রক্ত
তাকিয়ে আছে শূন্যের দিকে
শুধু মরা পাখী আর পাখী
নষ্ট চাঁদের আলো
বিতর্কিত বাতাসের ভিতর
শেষ ঘন্টা বাজিয়ে যায়
সব গল্প জানেনা গাছপালা
তাই বুকের পাজর বাজে
ব্যাথিত গিটারের মতো
কলিসিয়ামের গল্প জানে
বাস্প ও...