একটি রাত। অন্যান্য রাতের মত এ রাতেও আধার ছিল। রাতের গভীরতায় কাল্পনিক সম্ভোগে ক্লান্ত তরুণেরা ঘুমিয়ে পড়েছে। নারী পুরুষ সবাই ক্লান্তির কাছে হার মেনে ঘুমের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। সবাই ক্লান্ত হতে চায়। ক্লান্তির কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায়।
রাত্রির অন্ধকারকে আরও অন্ধকার করে দিতে রাস্তায়...
( এই গল্পের প্রতিটি চরিত্রই বাস্তবের সাথে মিলসম্পন্ন, কেউ যদি মিল খুঁজে না পান তাহলে সেটার জন্য লেখক দায়ী নয়)
গত সোমবার থেকে সমস্যাটা শুরু। যোগাযোগ মন্ত্রী আজরফ সাহেব হাঁটছেন আর চিন্তা করছেন। রুমের বাইরে তার পিএ কে বসিয়ে রেখেছেন। তার রুমে ঢোকা নিষেধ। তিনি রুমের এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে...
একজন কি চিন্তা করছে, তা যদি তার আশেপাশে থাকা মানুষগুলো বুঝতে পারতো তাহলে কি হত চিন্তাও করা যায়না। একজনের সামনে বসে মুখে আমরা এক কথা বলছি, কিন্তু মনে মনে অন্য কিছু চিন্তা করছি।
এই যেমন এখন আমি যা চিন্তা করছি, তা যদি মহারাজ জানতে পারতেন, তাহলে কি উনি আমাকে আশ্রমে রাখতেন। মহারাজ আমাকে অনেক পছন্দ...
মাহবুব কফি নিয়ে আসে। দুজনে আয়েশ করে কফিতে চুমুক দেয়।
"হাসান কেমন আছে, জানিস?'
"হুম, শুনেছিলাম ভালই আছে। গত তিন বছর ধরে ওর সাথে যোগাযোগ হয়নি। "
"কেন?"
"আসলে কারো সাথে যোগাযোগ করার ইচ্ছে হয়না।"
"তুই তো একদম অসামাজিক হয়ে গেছিস।"
"না বন্ধু। তোমাদের সমাজ আমাকে গ্রহণ করেনি। তাই নিজেই একটা...
"মনে করুন আপনি কাউকে খুন করতে চান, তাহলে কিভাবে করলে সবচেয়ে ভালো হয়?"
যাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নটা করা হয়েছে, তিনি প্রশ্নকর্তার দিকে ভুরু কুচকে তাকালেন। তার নিজের উপরই মেজাজ খারাপ হচ্ছে এমন একজন লোকের পাশে এসে বসেছেন সেই জন্য। তিনি চায়ের কাপ নিয়ে সরে বসলেন। যে লোকটা চা বানাচ্ছিল সে কথাগুলো...
তুমি তোমার মত করে বলে যাও। আমি হ্যা কিংবা না কিছুই বলবনা। কিন্তু আমি তোমার প্রতিটা কথাই মন দিয়ে শুনবো।
আমার সামনের চেয়ারে মেয়েটি বসে আছে।
মেয়েটির নাম নীরা। বয়স বিশ একুশ হবে। প্রেমঘটিত সমস্যা নিয়ে এসেছে। একটা ছেলের সাথে তার সম্পর্ক ছিল, কিন্তু হুট করে একদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।...
লাশটা অনেক ক্ষণ ধরে মর্গের বারান্দায় পরে আছে। বেওয়ারিশ লাশ। একটি চাটাই দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। লাশটির পা দুটো বের হয়ে আছে।
ডোম হরিশচন্দ্র বারান্দার এক কোনায় বসে গাঁজা টানছে। তার চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। হরিশ লাশের পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। ধবধবে ফর্সা দুটো পা। পা দুটো দেখে...
মদমত্ত নেতার দুই চোখ ঢুলুঢুলু করছে। উনি এসেছেন জাতিকে দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য। নেতা তর্জনী তুললেন, তর্জনী তুলে একজনকে বোতলটা দেখিয়ে আনতে বললেন। নেতা আরেক চুমুক খেয়ে শরীরটা চাঙ্গা করে দিলেন। নেতার মুখ চলছে, মাঝে মাঝে পেছন থেকে চামুচ বাহিনী তাকে এই সেই বলে দিচ্ছে। কয়েকজন উকি ঝুকি মারছে, যাতে...
সময়টা ১৯৭১, একটি অসহায় পরিবার গ্রামের রাস্তায় দাড়িয়ে আছে।
পাকিস্তানী সেনাদের ভয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে এসেছে। গ্রামে কোন আত্মীয়স্বজন না থাকায় বুঝতে পারছেনা কোথায় যাবে। পরিবারের কর্তা অসহায়ভাবে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। রাত বাড়ছে, সাথে তরুণী মেয়ে, কি করবে কিছুই বুঝতে পারছেনা। তার স্ত্রীর চোখ...
“তুমি, তুমি, তুমি কি সেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধা!! তুমিই কি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলে পিতার হত্যা আর রাজাকারের পুনর্বাসনের জন্যে?”
গম্ভীর ভঙ্গীতে ষ্টেজের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে কয়েকবার পায়চারী করার পর হঠাৎ কারো দিকে তাকিয়ে এই কথাগুলো বলতো। শেষে সে রেগে গিয়ে বলতো ,” জবাব, জবাব, জবাব...
ডঃ ইউনুস যখন নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন, তখন আনন্দে অশ্রু বিসর্জন করেনি এমন বাংলাদেশীর সংখ্যা খুবই কম। আমরা কেন অশ্রু বিসর্জন করেছিলাম জানেন, কারন আমরা আপনার অর্জনটাকে আমাদের নিজেদের অর্জন মনে করেছিলাম। কিন্তু আপনি আমাদের এই আন্দোলনটাকে আপনার আন্দোলন বলে মনে করেননি।
বাংলাদেশ একদিন সপ্ন দেখেছিল, স্বাধীন হবে,
এই বাংলার আকাশ, বাতাস, মাটি স্বাধীন হবে,
স্বাধীন বাংলাদেশ উচ্ছল কিশোরীর মত হাসবে।
স্বাধীনতা সপ্ন পূরণ করার জন্য,
ঝরে গেছে তিরিশ লাখ কিংবা তারও বেশি প্রান।
সপ্ন পূরণের আনন্দে বিভোর বাংলাদেশ।
সুরাপাত্র নিঃশেষ হয়ে যায় দ্রুত,
আর এক পেয়ালা সুরা দাও সাকী।
যদি সুরা শেষ হয়ে যায়,
তবে এ পেয়ালায় জীবন ঢেলে দাও।
আমি আকণ্ঠ পান করবো এ জীবন।
শেষ নিঃশ্বাসটুকু পর্যন্ত পান করবো,
আমার প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে যাবে,
আমার অস্তিতে মিশে যাবে এ জীবন।
শুধু পূর্ণতা দাও আমায়,
আর...
এখানে সত্য মাটি চাপা পরে গেছে অনেক আগেই,
শূকরেরা ক্ষুধার জ্বালায় তার বাচ্চা খেয়ে ফেলবে,
পিঁপড়ের সঞ্চিত খাবারে পা মাড়িয়ে যাবে সবাই,
সত্যগুলো কেউ জানবেনা, মাটির নিচে চাপা পরবেই।
রবীন্দ্রনাথ পন্য হয়ে আজ বাজারে বিকোয়,
নজরুল চলে গেছে আজ পতিতাদের মুখে,
গাজার কল্কেতে চলে লালনের...
অনেকেই ঘৃণার যোগ্য ছিল, তবু আমি ঘৃণা করিনি,
অনেক অস্পৃশ্যকে আমি নির্দ্বিধায় স্পর্শ করেছি।
আমি পচে যাওয়া শরীর বহন করেছি অনায়েসে,
আমার কোন ঘৃণাবোধ হয়নি,
ছুয়েছি বলে আমার কোন ঘৃণা হয়নি ।
কিন্তু আমি তোকে ঘৃণা না করে পারিনি,
আমি তোর মৃত্যু না চেয়ে পারিনি।
তোর হাতে লেগে আছে নিষ্পাপ উষ্ণ...