সামান্য কিছুক্ষণ আগে তুমি জানান দিলে
যেভাবেই হোক আমাকে তোমার চাই
অন্তত দিন রাত্তির এক পরিসরে
তাছাড়া সহমর্মিতা জানিয়ে বললে
আমি বড় একা এ দুঃসময়ে।
শোন তোমার এ ভাবনা ঠিক নয়।
আমার ভাবনার সঙ্গীরা সারাক্ষণ
আমার সাথে ঘুরে বেড়ায় ছায়ার মতো।
পুরো দিনের চাহিদা তোমার
তুমি আমার ভেতর ঢুকতে চাও...
রসিকজন এ কোন খেলা খেললে তুমি
আমার নাবিল বিরাণ ভূমিতে
এ অনাবিল আরাধনায় যা-ই বা পেলাম
পরম যত্নে ডাক দিয়ে পিছন পথে হারিয়ে গেলে
এ কেমন লুকোচুরির মহড়া দেখালে
নাকি সম্মুখ মোর আঁধার করলে অযথা
অঘোষিত চুক্তিতে যুক্তিতে
করবেই যদি তাহলে
তুমুল প্রতিশ্র“তি দিলে কেন
আঁকলে কেন হৃদয় রেখা ললাটে...
কবিতাকে আদুরে সম্ভাষণে
পেলবিত সৌহার্দে মর্মরিত করে
পাঠিয়েছিলাম কবিতা কুঞ্জে
কবি সভায় কবিতা সমোঝদারের প্রযত্নে
কিন্তু বিচিত্র মনের বিষাক্ত মাতমে
কবিতা সেদিন বিকশিত হতে পারেনি
আপন করে আপন মহিমায়
অনাদরে অবহেলায় অযত্নে
কবিতা ভীষণ দলিত মথিত হলো
অসহায়ের মত পড়ে থাকলো বর্তমানের...
পুনঃপৌণিক কবিতার কাছে ফিরে আসা
আমি কি এখন দারুণ বেদনার্ত
তাহলে আমার অচল বর্তমানের অশান্ত মনে
হৃদয়ের পেলব মাটি দিয়ে
কবিতার প্রতীমাগুলো বিনির্মিত হচ্ছে চেতনার শব্দরূপে
রুটিনওয়ার্ক শেষে সবাই গন্তব্যের তীর্থযাত্রী
ঘণ্টা বাজবার সাথে সাথে অগণিত সাথী বন্ধ
নিঃসীম নিরালায়...
কবিতার শব্দ ছন্দগুলো
মনের আকাশ থেকে
অঝরে ঝরে শিলা বৃষ্টির মতো
নিঃশেষ হওয়ার আগে
মনের পলিশ দিয়ে মেখে রাখি সযতনে
আগলে রাখি মনের মণিকোঠায়
বিন্যস্ত করি নকশীকাঁথার আলপনায় পরিপক্ব করি লালনে
মৌসুম আসলে আবার বুনে দেই কাব্যমাঠে
সময় পরিক্রমায় অঙ্কুরিত হয়ে
প্রস্ফুটিত হয় সুশোভিত হয়
আঁধার...
সভ্যতার অনাবাদি পতিত
হৃদয় মাঠের এক চিলতে নিবন্ধিত জমি
এর আগে কারুরই হৃদচারণা ছিল না
একেবারে নবোদয় নাবিল টোটাল ভার্জিন
কত আরাধনায় কঠিন সাধনায় অর্জন করি আবাদ করি
সেবা যত্ন পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করি
ক্ষণে ক্ষণে ফলন আসে উৎপাদন বাড়ে
তা আবার জীবনের সঞ্চয়ী গর্তে জমা করি
শ্রমে...
সুপ্রিয় ক্রেতা সাধারণ
আমার জীবন পশরার ব্যালকনিতে সাজানো
কত উপকরণ স্থাবর অস্থাবর সম্পদ আমার
আমি সব নিলামে উঠাবো বিক্রি করবো
ফিরিস্তি শুনবেন জীবনের তাকে সাজানো জীবনোপকরণ
আমার অনাবিল আনন্দের উচ্ছ্বলতা
আমার প্রচণ্ড বিশ্বাসের সোনালিপাত
আমার নির্মল...
হৃদয় মহাজন হৃদয়াপতি
একটি আকুল আবেদন তোমার প্রতি
তোমার হৃদয়টুকু ভাড়া চাই সামান্য ক’দিনের জন্য
কতদিন কষ্টে যন্ত্রণায় বেদনায় অসাড় হয়ে নিঃসীম প্রায়
মন বসছেনা ঘরের আরশি কোণে
সীমিত অবয়বে সীমায়িত যোগানে
মন যে ভরছেনা কোনো মতেই
সব পাওনার...
আমার একটি বেয়াড়া আত্মা আছে
সে জন্ম থেকে সহাবস্থান
এতকাল একসাথে সমান্তরাল সময় চলা
কিন্তু একান্তভাবে বলি সে একেবারে অনিয়ন্ত্রিত
তার সাথে সমঝোতা করা বড় দায়
ও যে ভাবে চায় আমি তা চাইনা
কিংবা আমি যে ভাবে চাই ও সে ভাবে পায় না
আমার সীমায়িত...
সময়ের বৈরিতা ভিড়তে দেয় না
স্বজনের নিবিড় সান্নিধ্যে
আকাল সময় মাকাল মুহূর্ত
যদি তা-ই হয় তাহলে এ কেমন ব্যাকুল আরাধনা।
কষ্টের বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে
কত সাধনা করেছি
যদি পাওয়া না-ই বা হয় তাহলে
যাপিত জীবন একাই বয়ে যাবো ।
সময়ের স্পর্শে কেবলি পাই...
তোমার নিবিড় সান্নিধ্যে
আমি নিয়ত স্বতঃস্ফূর্ত সহজাত।
কসম খেয়ে বিশুদ্ধ সততায় বলি
তোমার জন্য আমার হৃদয় দুয়ার খোলা সতত।
তুমি একান্ত আমার বলে
তোমার সাথে আমার অন্তরের
চিন্তা চেতনার ভাবগুলো ভাগাভাগি করি
এতে কোনো ছল চাতুরি নেই।
তোমার সম্পৃক্ততার সুরভিত অনুভূতিগুলো
নিত্যপ্রহর বয়ে বেড়াই...
বহুদিন প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছি
স্বপ্ন যুবকের মধুমিলনে
শুধুই বহ্নিমান ক্লীষ্ট পথ চলা
এ পথের শেষ নেই কাছে থেকেও দূরে
কল্পনার সব রঙ দিয়ে পেইন্টারের দক্ষ হাতে
বর্ণিল করে সাজাই তোমায় যুবা নামে
কখনো কালান্ত কখনো উদভ্রান্ত
বিশেষ কিছুর প্রাপ্যতায় নিত্য দ্বার খোলে
স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়...
এক টুকরো কাগজের এত দাম হতে পারে
বুঝিনিতো এর আগে
বুঝলাম এবার দারুণ বুঝা অন্তরে অম্বরে
বাস্তব কল্পনা কেন মিশে যায় প্রেমাকার হয়ে
যখন তুমি চলে গেলে তোমার কথা মনে পড়ে
সে তুমি আজ আমা হতে অনেক দূরে...
খেলার ছলে একদিন তুমি লিখেছো
ভালোবাসি তোমায় হৃদয়...
এমন কি কোন শব্দ আছে
যা দিয়ে বুঝাতে পারি
এমন কি কোন বাক্য আছে
যা দিয়ে প্রকাশ করতে পারি
এমন কি কোন ছন্দ আছে
যা দিয়ে সুরের জাল বুনতে পারি
পৃথিবীর সব শব্দ বাক্য সুর স্বর ছন্দ দিয়ে
একান্তভাবে বলি
বন্ধু ওগো ভালোবাসি কতো
তোমার কল্পনারও সীমানা...
খুঁজে বেড়াই
কোথায় তুমি লুকিয়ে আছো এ শহরের মাঝে,
তোমায় খুঁজি নিত্যপ্রহর সকাল দুপুর সাঁঝে।
এমন কথা ছিলনাতো কভূ হারিয়ে যাবে তুমি,
বলেছো তুমি সব সাধনায় অহরহ আমি।
কেন তুমি হারিয়ে গেলে আমার নেইতো জানা,
কোন ছোবলে ছন্দ পতন আসা যাওয়া মানা।
এমন যদি করবেই তুমি কেন কথা...
মনে হয় শুরু থেকেই একটু
বাড়াবাড়ি রকমের মিল তোমাতে আমাতে
অনেক আগেই নামের সাথে নাম
গাঁথা হয়ে যেতে পারত
কিন্তু সাধ্য সাধনার পথ ধরে চলতে পেরেছি কি
জানি বড় হলে একাকি পথ চলতে হয়
তাইতো পথ চলতে পাথেয় দাবি করি না
স্তদ্ধতার গভীর খাদ থেকে
কবে...
শেয়ারিং
আলোটুকু তোমার জন্য
আঁধারটুকু আমার
সাদা কালোর সম্মিলনে
রচবো প্রেমের কাব্য খামার।
দুঃখটাকে আমার রেখে
সুখটা তোমায় দিলাম
হাসি কান্নার চোরাবালিতে
কষ্টটুকু তুলে নিলাম।
দিন রাতের চক্রায়নে
দিনকে দিলাম তোমায়
আঁধার আমার কাব্যসাথী
বলবে কিছু আমায়।
কাছেরটুকু তোমার...